Food Ingredients

আল্লাহ তায়ালা একমাত্র রিযিক দাতা

পাউরুটি(Bread)

ভূমিকা(Introduction):

বর্তমানে বিভিন্ন খাদ্যশিল্পের মধ্যে বেকারী শিল্প একটা বড় অংশ দখল করে আছে । কারণ বেকারী খাদ্যের উৎপাদন সবচেয়ে বেশি এবং এখানে বেশি পরিমাণ লোকবল নিয়োজিত আছে । অধিকাংশ লোক সকালের নাস্তার প্রধান অংশ হিসেবে পাউরুটি খেয়ে থাকে । পূর্বে আধুনিক কোন প্রযুক্তি না থাকায় বিভিন্ন কোম্পানি বা শিল্পপ্রতিষ্ঠান দৈনিক ভিত্তিতে পাউরুটি তৈরি করত এবং সরাসরি ভোক্তাদের ( Consumers ) কাছে বিক্রি করত ।

আধুনিক প্রযুক্তি আসার পর বিভিন্ন বেকারী শিল্প অধিক হারে পাউরুটি তৈরি শুরু করে এবং ডিস্ট্রিবিউটারের মাধ্যমে খুচরা বিক্রেতার কাছে বিক্রি করে । বর্তমান অবিরাম ( Continuous ) পাউরুটি তৈরি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পাইকারি বিক্রেতা পাউরুটি তৈরি করছে । ফলে উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়ে বেকারী শিল্পকে উন্নত করেছে ।

শক্তিশালী বা শক্ত গমের ময়দা পাউরুটি তৈরির মূল উপাদান । কিন্তু এই ময়দার চর্বি বা ফ্যাট কম হওয়া উচিত । কারণ চর্বির পাউরুটিকে কটুত্ব ( Rancid ) করার প্রবণতা থাকে । ময়দার উৎসেচক ( Enzyme ) যথা- ডাস্টার ( Diastare ) এবং প্রোটার ( Protare ) পাউরুটির গুণগত মানের উপর প্রভাব ফেলে । ডায়াস্টার স্টার্চকে গাজিয়ে ( Ferment ) চিনি তৈরিতে সাহায্য করে । প্রােটার খামিরকে নরম করে এবং গ্লুটেনকে ভেঙ্গে সহজ দ্রব্যে পরিণত করে ।

ময়দার মধ্যে এ গুলো বেশি পরিমাণ থাকলে খামির কম গ্যাস ধারণ করতে পারে । ফলে খামির চটচটে ভাব হয় । পাউরুটি তৈরির অত্যাবশ্যকীয় দ্রব্য হল ঈস্ট । ঈস্ট চিনিকে গাজন প্রক্রিয়ায় ভেঙ্গে কার্বন ডাই – অক্সাইড ( CO , ) ও অ্যালকোহল উৎপন্ন করে এবং সাথে সাথে খামিরকে স্ফীত করে বা ফোলায় ।

অধিকাংশ বেকারী শিল্পে শুষ্ক এবং সংকুচিত ( Compressed ) ঈস্ট ব্যবহার করা হয় । পাউরুটির গুণগত মান ( Quality ) নির্ভর করে ঈস্ট এর কার্যক্ষমতার উপর । ঈস্ট এর কার্যক্ষমতা বেশি হলে খামিরে চিনির পরিমাণ কমে যায় , ফলে পাউরুটির উপরের শক্ত আবরণ ( Crust ) এর বর্ণ খারাপ হয় । আর কার্য ক্ষমতা কম হলে খামিরে চিনির পরিমাণ বেশি হয় , ফলে পাউরুটির উপরের শক্ত আবরণ কালাে হয়ে যায় । সুতরাং পাউরুটি তৈরিতে সঠিক পরিমাণ চিনি এবং ঈস্ট এর প্রয়োজন ।

পাউরুটি সম্পর্কে আরো যা যা জানতে পারি

কাঁচামাল ( Raw materials ):

যে সকল উপাদান দিয়ে পাউরুটি তৈরি করা হয় তাদেরকে পাউরুটির কাঁচামাল ( Raw Materials of Bread ) বলা হয় । পাউরুটি তৈরির উপাদান হিসেবে যে সকল কাঁচামাল ব্যবহৃত হয় , সেগুলো প্রধানত দুই ভাগে বিভক্ত । যথা-

 ১। অত্যাবশ্যকীয় উপাদান ( Essential Ingredients ):

( i ) ময়দা ( Flour )

( ii )ঈস্ট ( Yeast )

( iii ) পানি ( Water )

( iv ) লবণ ( Salt )

২। ঐচ্ছিক উপাদান ( Non – essential Ingredients ):

( i ) চিনি ( Sugar )

( ii ) চর্বি ও তেল ( Fat and Oil )

( iii ) গুড়াদুধ ( Milk Powder )

( iv ) গন্ধবর্ধক দ্রব্য ( Flavouring Agent )

( v ) মল্ট ময়দা ( Malt Flour )

( vi ) জারক ( Oxidant ) , পটাশিয়াম ব্রোমেট বা পটাশিয়াম আয়োডেট

( vii ) মিনারেল ঈস্ট ফিড যেমন— অ্যামোনিয়াম বাই সালফেট , এসিড ক্যালসিয়াম সালফেট

( viii ) ওয়াটার কন্ডিশনার ( Water Conditioner ) , যেমন- ক্যালসিয়াম ফসফেট

( ix ) অ্যান্টি মোল্ড প্রতিরোধক ( Anti Mold Agent ) , যেমন– সোডিয়াম বা ক্যালসিয়াম প্রোপায়োনেট

( x ) রোপ প্রতিরোধক ( Anti Rope Agent ) , যেমন— অ্যাসিটিক এসিড , এসিড ক্যালসিয়াম ফসফেট , ক্যালসিয়াম ডাই – অ্যাসিটেট , জিএমএস ( GMS )

পানি ( Water ):

পানি মিশ্রিত করলেই খামির নরম হবে এটা সঠিক না । কারণ খর পানি সুস্থ খামির তৈরিতে বাধা দেয় । খর পানির দ্বারা গুটেন নরম হওয়ার কারণে পাউরুটি বেকিং – এ বেশি সময় লাগে । ক্ষারকীয় পানি পাউরুটির গুণগত মান নষ্ট করে । কারণ এসিডিটি মানসম্মত পাউরুটি তৈরিতে সহায়তা করে । ভাল খামির তৈরি করার জন্য সঠিক পরিমাণ বিশুদ্ধ পানির প্রয়োজন হয় , যা ময়দার গুটেনকে উদজান ( Hydrolyzed ) করতে পারে । ১০০ গ্রাম ভাল মানের ময়দার জন্য ৬০ – ৬৪ । মিলি লিটার বিশুদ্ধ পানির দরকার ।

লবণ ( Salt ):

পাউরুটি তৈরির ফর্মুলায় মোট উপাদানের ১.৫ – ২ % লবণ ব্যবহার করা হয় । বেকারী শিল্পে চূর্ণ দানাযুক্ত আয়োডিন লবণ ব্যবহার করা হয় । পাউরুটিতে লবণের ভূমিকা নিন্মরূপ

( i ) স্বাদ এবং গন্ধ বৃদ্ধি করে।

( ii ) গাঁজন প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত করে ।

( iii ) গুটেনের শক্তি বৃদ্ধি করে এবং

( iv ) গাঁজন প্রক্রিয়া দ্রুত ঘটায় ।

চিনি ( Sugar )

পাউরুটি তৈরিতে প্রায় ২ – ৬ % চিনি ব্যবহার করা হয় । এই চিনি গাঁজন প্রক্রিয়ায় ঈস্ট দ্বারা ভেঙ্গে CO ; উৎপন্ন করে । অর্থাৎ পাউরুটি তৈরিতে ঈস্ট এর পুষ্টি উপাদান হিসেবে চিনি ব্যবহার করা হয় । এই চিনি পাউরুটির গন্ধ বা স্বাদ ( Flavour ) এর পরিবর্তন ঘটায় । তাছাড়া মিষ্টিবর্ধক হিসেবে চিনি ব্যবহার করা হয় ।

মিল্ক সলিড ( Milk solid ):

তরল দুধ মাঝে মাঝে বাড়িতে এবং ছোট ছোট বেকারী শিল্পে ব্যবহার করা হয় । স্কিম মিল্ক পাউডার ( Skim milk powder ) বা চর্বিবিহীন গুঁড়াদুধ বড় বড় বেকারী শিল্পে পাউরুটি তৈরিতে ব্যবহৃত হয় । এই গুড়াদুধ স্প্রে ড্রায়ার বা রোলার ড্রায়ার দ্বারা তৈরি করা হয় । পাউরুটি তৈরির খামিরে ৩ – ৮ % এই গুড়াদুধ ব্যবহার করা হয় । আবার মিল্ক ব্রেড ( Milk Bread ) তৈরিতে ১০০ ভাগ ময়দার সাথে ৮.২ ভাগ মিল্ক সলিড ব্যবহার করা হয় ।

গুঁড়া দুধের গুরুত্বপূর্ণ ধর্ম হল , পাউরুটির উপাদানগুলো কে পানির সাথে দ্রবীভূত করতে এবং সহজে জমাট বাধতে সহায়তা করে । রোলার ড্রায়ার পদ্ধতিতে তৈরি গুঁড়াদুধ ৯০ % পানিতে দ্রবীভূত হয় । সেখানে স্প্রে ড্রায়ার পদ্ধতিতে তৈরি গুড়াদুধ ৯৯ % দ্রবীভূত হয় ।

গন্ধবর্ধক দ্রব্য ( Flavouring agents ):

পাউরুটির আস্বাদ বৃদ্ধি করায় গন্ধবর্ধকের একমাত্র কাজ । তাই পাউরুটির আস্বাদ বৃদ্ধি করার জন্য মাঝে মাঝে গঙ্গবর্ধক দ্রব্য ব্যবহার করা হয় । এর ফলে ক্রেতা বা ভোক্তাদের আকর্ষণ করে ।

পাউরুটি তৈরির পদ্ধতিসমূহ ( Methods of bread manufacturing ):

পাউরুটি তৈরির প্রধান ধাপগুলো হল-

( i ) খামির তৈরি ( Preparation of Dough )

( i ) খামির গাঁজানো ( Fermentation of Dough )

( iii ) সেঁকা ( Baking )

সাধারণত তিনটি পদ্ধতিতে পাউরুটি তৈরি করা হয় । যথাঃ

( i ) সরাসরি খামির তৈরি পদ্ধতি ( Straight Dough Method )

( ii ) আর্দ্র খামির পদ্ধতি ( Sponge Dough Method )

( iii ) যান্ত্রিক খামির পদ্ধতি ( Mechanical Dough Method )

স্ট্রেইট-ডো পদ্ধতি ( Straight dough method ):

স্ট্রেইট-ডো পদ্ধতি হল একটা একধাপ প্রক্রিয়া। যেখানে পাউরুটির সমস্ত উপাদানগুলো ( Ingredients ) ২৭ ° সে. তাপমাত্রায় একসাথে মেশানো হয় । মানসম্মত পাউরুটি তৈরি নির্ভর করে সমস্ত উপাদানগুলো ভালভাবে মেশানো এবং মাখানো (Kneading) এর উপর ।

বড় বেকারী শিল্পে এ কাজ যান্ত্রিক উপায়ে এবং ছোট ছোট বেকারী শিল্পে হাত দ্বারা বা ম্যানুয়ালি করা হয় । মাখানো যন্ত্রে বিভিন্ন ধরনের ঘূর্ণায়মান ( Rotating ) পাখা বা ছুরি থাকে যেগুলো , ময়দাসহ অন্যান্য উপাদানগুলোকে ভালভাবে মিশ্রিত করে । মিশ্রিত অবস্থায় গাঁজানো দ্রব্য ( Ferment ) যোগ করা হয় এবং খামির তৈরির বা স্ফীত হওয়ার প্রাথমিক অবস্থায় লবণ যোগ করা হয়।

স্পঞ্জডো পদ্ধতি ( Sponge dough method ):

এ পদ্ধতি দুটি ধাপে সম্পন্ন হয়-

( ১ ) স্পঞ্জ গঠন ( Formation of Sponge ) এবং

( ২ ) খামির বর্ধন ( Development of Dough )

স্পঞ্জ ধাপে সাধারণত ৫০ – ৮০ % ময়দা , ঈস্ট ও মল্ট এবং প্রয়োজনীয় পানি ব্যবহার করা হয় । ফলে  অনমনীয় খামির তৈরি হয় । পরিপূর্ণ খামির তৈরির জন্য অবশিষ্ট ময়দা এবং পানি যোগ করে গজানোর জন্য অল্প সময় | SUSSEN রেখে দেয়া হয় ।

মিশ্রণ এবং গাজন ( Mixing and fermentation ):

ময়দা চালনি দিয়ে ছেকে ( অন্ত্রব্য দূর করা ) কনভেয়ারের সাহায্যে ওজন হোপারে ( Weighing Hopper ) – এ নেওয়া হয় । একটা ব্যাচের ওজনের ৫০ – ৮০ ভাগ ময়দা নিয়ে বোল ( Bowl ) বা পাত্রে ঢালা হয় । ঈস্ট এবং অন্যান্য উপাদান পানিতে মিশিয়ে পাত্রে রাখা ময়দার সাথে যোগ করা হয় । প্রয়োজনীয় পানি পাত্রে যোগ করে উর্বর ( Enrichiment ) উপাদানগুলো ভালভাবে মিশ্রিত করা হয় । তৈরিকৃত এই খামিরকে স্পঞ্জ ( Sponge ) বলে।

এ অবস্থায় শুধু উপাদানগুলো মিশ্রিত করা হয় । কিন্তু ময়দার গুটেন উৎপন্ন হয় না । ময়লার অতিরিক্ত দ্রব্য হিসেবে উৎসেচক বা এনজাইম যোগ করতে চাইলে স্পঞ্চে যোগ করা যেতে পারে । এই স্পঞ্জকে পরে কনভেয়ারের মাধ্যমে গাজন কক্ষ ( Fermentation Room ) = এ নেয়া হয় । এখানে তাপমাত্রা ২৭ ° সে , এবং আর্দ্রতা ৭৫ – ৮০ % থাকে । ৩.৫ – ৫ ঘণ্টার মধ্যে এ স্পঞ্জ গাজন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে । ফলে এর আয়তন বৃদ্ধি পায় ।

গাজন সম্পন্ন হলে পুনরায় মিশ্রণ পাত্রে নেয়া হয় । এখানে অবশিষ্ট ময়দা এবং পানি , স্কিম মিল্ক পাউডার , চিনি , লবণ , সর্টেনিং ও অন্যান্য গৌণ উপাদানগুলো যোগ করা হয় এবং খামির মাখানো হয় ।। [ এ ধাপে খামির বারবার সম্প্রসারিত এবং সংকুচিত হয়ে গ্লুটেন উৎপন্ন হয় । এ অবস্থায় খামির তৈরি হয় এবং তার গঠনও ভাল হয় । খামির বেশি মিশ্রিত অথবা কম মিশ্রিত করলে পাউরুটির গুণগত মান ( Quality ) নষ্ট হয় ।

মিশ্রণ যন্ত্র যেহেতু জ্যাকেট আকৃতির সুতরাং , ঠাণ্ডা বস্তু ( Refrigerant ) বা লবণ দ্রবণ ( Brine ) জ্যাকেটে চক্রাকারে ( Circulating ) প্রবেশ করিয়ে অথবা সরাসরি কয়েল ব্যবহার করে স্পষ্ট এবং খামিরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করা হয় । যখন খামির মিশ্রণ যন্ত্র থেকে সরানো হয় তখন এর তাপমাত্রা থাকে ২৭ ° সে , । উপযুক্ত মিশ্রিত খামির ব্যবহারের পূর্বে ১৫ – ৪৫ মিনিট রেখে দেওয়া হয় , একে ফ্লোর সময় ( Floor ” Time ) বলে । এ অবস্থায় খামির ব্যবহারযোগ্য হয় ।

সমন্বয় করা ( Make Up )

প্রয়োজনীয় ফ্লোর টাইমের পর খামিরকে পাউরুটি তৈরির যন্ত্রের হোপারে নেয়া হয় । এই যন্ত্রের ট্রাফ ( Trough ) উঠানামা করে এবং কাত হয় , ফলে খামির ট্রাফের শেষ প্রান্তের ছিদ্র দিয়ে গড়িয়ে পড়ে । এই যন্ত্রে পিস্টন এবং সিলিন্ডার থাকে । পিস্টন সিলিন্ডারের মধ্যে উঠানামা করে । এই পিস্টন দ্বারা সিলিন্ডারের মধ্যে খামির নিষ্পেষিত হয় । সিলিন্ডারের মধ্যে খামির ছোট ছোট টুকরায় পরিণত হয় , যা চলন্ত বেল্ট দ্বারা কুকিং চেম্বারে নেয়া হয় । খামিরের টুকরার ওজন মাঝে মাঝে পরীক্ষা করা হয় । যদি খামিরের টুকরার ওজন কম – বেশি হয় তাহলে সিলিন্ডারকে সমন্বয় করা হয়।

একটা চলন্ত বেল্ট খামিরের খন্ডগুলোকে গোলকারক বা রাউন্ডার ( Rounder ) এর মধ্যে নিয়ে যায় । এখানে অমসৃণ , জীর্ণ খণ্ডগুলো মসৃণ এবং গোলাকৃতির হয় । এ রাউন্ডার , একটা ঘূর্ণায়মান কোন ( Rotating Cone ) এবং একটা প্রেসার বোর্ড দিয়ে তৈরি । এখানে খামিরের খণ্ডগুলোকে গোটায়ে প্রেসার বোর্ডের ভিতর দিয়ে যায় , ফলে খগুলো গোলাকৃতির হয় । পরে এ গোলাকৃতির খামিরের খণ্ডগুলো যান্ত্রিকভাবে ওভারহেড প্রফার ( Overhead Proofer ) এর মাধ্যমে কনভেয়ারে স্থাপিত ট্রেতে যায় ।

ওভারহেড প্রাফারের মধ্য দিয়ে যাওয়ার সময় ( এখানে ১৫ মিনিট সময় লাগে ) গুটেন আলগা বা ঢিলা হয় , ফলে খণ্ডগুলো নরম বা নমণীয় হয় । প্রত্যেক খণ্ড ওভারহেড প্রফার থেকে মোন্ডারে যায় । এখানে বোলারের সাহায্যে খগুলো সীট ( Sheet ) আকৃতির হয় । পরে মোল্ডার সীটকে সিলিন্ডারের মধ্যে পাকিয়ে তোলে এবং স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্যানের উপর পড়ে , যেথানে পাউরুটি সেঁকা হয় । এখানে ৪ – ৬ টা প্যান একসাথে সারিবদ্ধভাবে যুক্ত থাকে , যাতে পরবর্তী বেকিং ধাপ আবার শুরু হয় । এভাবে আটোমেটিক প্রক্রিয়া চলতে থাকে ।

ময়দা ( Flour ):

শক্ত গম ( Hard Wheat ) থেকে যে ময়দা তৈরি হয় তা পাউরুটি তৈরিতে ব্যবহার করা হয় । এই ময়দা ক্রিম বর্ণের সুক্ষ্ম গুড়ার মত । এতে ১১.৫ – ১৩ % আমিষ ( Protein ) থাকে । বিভিন্ন জাতের গমের ময়দায় বিভিন্ন পরিমাণ প্রোটিন থাকতে পারে । ময়দার জলীয়কণার পরিমাণ ১৪ % এর বেশি হওয়া উচিত না । ময়দার মধ্যে স্টার্চ , প্রোটিন , চিনি , ভিটামিন , খনিজদ্রব্য এবং জলীয়কণা থাকে ।

এ সকল পুষ্টি উপাদানের পরিমাণ ভিন্ন ভিন্ন জাতের গমে ভিন্ন হয় । কোন কোন জাতের গমের ময়দায় ৭ – ৮ % প্রোটিন থাকে । ময়দার ভৌত গুণাবলি পরিমাপের জন্য ফারসিনোগ্রাফ ( Farcinograph ) নামক যন্ত্র ব্যবহার করা হয় । এর সাহায্যে উপযুক্ত আঠালোতা ( Consistency ) বিশিষ্ট খামির তৈরিতে কী পরিমাণ পানি লাগবে তা জানা যায় । খামিরের মিশ্রণের সময় এবং গ্লুটেনের শক্তিও জানা যায়।

ঈস্ট ( Yeast ):

পাউরুটির খামিরে ঈস্ট যোগ করার প্রাথমিক কাজ হচ্ছে চিনিকে গাজন প্রক্রিয়ায় ভেঙ্গে CO ; উৎপন্ন করে খামিরকে ফুলিয়ে তোলা । বাজারে দুই ধরনের ঈস্ট পাওয়া যায়- শুদ্ধ ঈস্ট ( Dry Yeast ) এবং সংকুচিত ঈস্ট ( Compressed Yeast ) । বর্তমানে বেকারী শিল্পে সংকুচিত ঈস্ট ব্যবহার করা হয় । এই ঈস্ট ব্যবহারের পূর্বে ফ্রিজে রাখা হয় । উপযুক্ত খামির তৈরি হতে কী পরিমাণ সময় লাগবে তা নির্ভর করে ব্যবহৃত ঈস্ট এর পরিমাণের উপর ।

ব্যবহৃত ঈস্ট এর পরিমাণ বেশি হলে পাউরুটি ভাল হয় না । ময়দার ওজনের ২ – ২.৭৫ % ঈস্ট ব্যবহার করলে উপযুক্ত পাউরুটি তৈরিতে ঈস্ট এর কার্যক্ষমতা বাধা পায় । উচ্চ ঘনত্ববিশিষ্ট সংকুচিত ঈস্ট পাউরুটি তৈরিতে ব্যবহৃত হয় যার জলীয়কণার পরিমাণ ৭০ % থাকে । এ জাতীয় ঈস্ট মোমের প্রলেপ দেয়া রাপিং ( Wrapping ) অবস্থায় কেনা হয় । এ ঈস্ট ৪ ° সে . তাপমাত্রায় সংরক্ষণ করলে দুই সপ্তাহ পর এর কার্যক্ষমতা ৫ – ৬ % কমে যায় । শুদ্ধ ঈস্ট এ প্রায় ৯২ % কঠিন অংশ থাকে । এর কার্যক্ষমতা সংকুচিত ঈস্ট এর অর্ধেক্।

শুষ্ক ঈস্ট ২১ ° সে . তাপমাত্রায় খোলা অবস্থায় সংরক্ষণ করলে প্রায় ৭৩ % কার্যক্ষমতা হারায় । কিন্তু যদি নাইট্রোজেন সহযোগে সংরক্ষণ করা হয় তাহলে এর নষ্ট হওয়ার হার মাত্র ১ % । শুষ্ক ঈস্ট এ প্রায় ৭ – ১৫ % জলীয়কণা থাকে এবং একে পানিরোধক পাত্রে প্যাকেটজাত করা হয় ।

স্ট্রেইট – ডো পদ্ধতিতে বিস্কুট তৈরির পদ্ধতি ( Preparation of bread by straight dough method ):

ট্রেইট – ডো পদ্ধতি হল একটা একধাপ প্রক্রিয়া । যেখানে পাউরুটির সমস্ত উপাদান ২৭ ° সে . তাপমাত্রায় একসাথে মেশানো হয় । মানসম্মত পাউরুটি তৈরি নির্ভর শড়৯ সমস্ত উপাদানগুলো ভালভাবে মেশানো এবং মাখানো এর উপর । বড় বেকারি শিল্পে এ কাজ যান্ত্রিক উপায়ে এবং ছোট ছোট বেকারি শিল্পে হাত দ্বারা বা ম্যানুয়ালি করা হয় । মাখানো যন্ত্রে বিভিন্ন ধরনের ঘূর্নায়মান ( Rotating ) পাখা বা ছুরি থাকে যেগুলো ময়দাসহ অন্যান্য উপাদানগুলোকে ভালভাবে মিশ্রিত করে ।

মিশ্রিত অবস্থায় গাজানো দ্রব্য যোগ করা হয় এবং খামির তৈরির বা স্ফীত হওয়ার প্রাথমিক অবস্থায় লবণ যোড়গ করা হয় । সমসত্ত্ব বা সমানভাবে মিশ্রিত খামিরকে পরে একটা যন্ত্রের মধ্যে নেয়া হয় । যেখানে খামির অনবরত খণ্ড – বিখণ্ড হয়ে একটা নির্দিষ্ট আকার এবং ওজনের টুকরায় পরিণত হয় । এ টুকরাগুলো যন্ত্রের নিচে দিয়ে চলন্ত প্যানের উপর পড়তে থাকে । এ প্যানগুলো নির্দিষ্ট সময় পর পর অবস্থান পরিবর্তন করে ।

তাছাড়া প্যানের সাথে ছুরি থাকে । সুতরাং প্রতিটি খণ্ড সুষ্ঠুভাবে প্যানের উপর পড়ে । এই টুকরাগুলো গাজনের জন্য রাখা হয় , যাকে প্রফ বলে । উপযুক্ত প্রফিং এর খণ্ডগুলো সেঁকার জন্য ওভেন নেয়া হয় । এখানে ২৩২ ° সে , তাপমাত্রায় প্রায় ২৫ মিনিট খণ্ডগুলোকে সেঁকা হয় । এ সময় টুকরাগুলো পরিপূর্ণ পাউরুটির আকার ধারণ করে ।

স্পঞ্জ-ডে পদ্ধতিতে বিস্কুট তৈরির পদ্ধতি ( Preparation of bread by sponge dough method ):

এ পদ্ধতি দুটি ধাপে সম্পন্ন হয় । স্পঞ্জ গঠন এবং খামির বর্ধন । স্পঞ্জ ধাপে সাধারণত ( ৫০ – ৮০ ) % ময়দা ঈষ্ট ও মল্ট এবং প্রয়োজনীয় পানি ব্যবহার করা হয় । ফলে অনমনীয় খামির তৈরি হয় । পরিপূর্ণ খামির তৈরির জন্য অবশিষ্ট ময়দা এবং পানি যোগ করে গজানোর জন্য অল্প সময় রেখে দেয়া হয় ।

এখানে খামিরকে ভালভাবে মেশানো হয় , যতক্ষণ খামিরের কাঠামো এবং গ্যাস উৎপন্ন না হয় । এই সুগঠিত খামিরকে পরে একটি যন্ত্রের মধ্যে নেয়া হয় । যেখানে খামির অনবরত খণ্ড বিখও হয়ে একটা নির্দিষ্ট আকার এবং ওজনের টুকরায় পরিণত হয় । এ টুকরাগুলো যন্ত্রের নিচে দিয়ে চলন্ত প্যানের উপর পড়তে থাকে । এ পানাগুলো নির্দিষ্ট সময় পরপর অবস্থান পরিবর্তন করে । তাছাড়া প্যানের সাথে ছুরি থাকে ।

সুতরাং প্রতিটি খণ্ড সুষ্ঠুভাবে প্যানের উপর পড়ে । এই টুকরাগুলো গাজনের জন্য রাখা হয় , যাকে প্রুফ T ( Proof ) বলে । উপযুক্ত প্রুফিং এর পর খণ্ডগুলো সেঁকার জন্য ওভেনে নেয়া হয় । এখানে ২৩২ ° সে . তাপমাত্রায় প্রায় ২৫ মিনিট খণ্ডগুলোকে সেঁকা হয় । এ সময় টুকরাগুলো পরিপূর্ণ পাউরুটির আকার ধারণ করে । পরে ঠাণ্ডা করে প্যাকেটজাত করা হয়।

খামির ফোলানো এবং সেঁকা ( Proofing and Laking ):

খামিরের টুকরাগুলোর আয়তন বৃদ্ধি বা স্ফীত হওয়ার জন্য প্যানে কিছু সময় রেখে দেওয়াকে প্রফিং ( Proofing ) বলে । এ সময়ে খামিরের টুকরাগুলো ফুলে বা স্ফীত হয়ে তার মূল আয়তনের প্রায় ছয় গুণ বৃদ্ধি পায় । একটা অবিরাম প্রফার এর মধ্যে খামিরের টুকরাগুলোকে ফোলানো হয় , যেখানে প্যান বা ট্রেগুলো একটা কেবিনেট চেম্বারের মধ্য দিয়ে চালনা করা হয় । ঐ চেম্বারের তাপমাত্রা ৩০ – ৩৫ ° সে . এবং আর্দ্রতা ৮৫ – ৯৫ % -এ রাখা হয় এবং পরে সেঁকার জন্য ওভেনে দেয়া হয় ।

আবার প্যানগুলো রাক ( Rack ) এ বোঝায় করে ছোট রেলগাড়ির প্রুফ বক্সে নেয়া হয় । প্রুফ এর জন্য প্রয়োজনীয় সময় প্রায় ১ ঘণ্টা । এই প্রুফ বক্স থেকে খামিরের টুকরা ওভেনে নেয়া হয় । অবিরাম ( Continuous ) প্রক্রিয়ায় ওভেনকে যান্ত্রিক উপায়ে স্থানান্তরিত করা হয় । অনেক সময় প্যানগুলো হাত দিয়ে ওভেনে নেয়া হয় । অধিকাংশ ওভেনই চলন্ত টানেল বা ল্যাপ ওভেন খামিরের স্ফীত টুকরা বোঝাই প্যানগুলো এক প্রান্ত দিয়ে প্রবেশ করে পাউরুটি সেঁকে অপর প্রান্ত দিয়ে বের হয় ।

ওভেনে বিভিন্ন তাপমাত্রায় একাধিক চেম্বার থাকতে পারে । বর্তমানে ০.৫ কেজি পাউরুটি ২১৫ – ২২৫ ° সে . তাপমাত্রায় সেঁকতে প্রায় ১৭ – ২৩ মিনিট সময় লাগে ।

ঠাণ্ডা , টুকরা ও মোড়কজাতকরণ ( Cooling , slicing and wrapping ):

সেঁকা পাউরুটি যান্ত্রিকভাবে প্যান থেকে তুলে বেল্ট কনভেয়ারের সাহায্যে ব্রেড কুলার ( Bread Cooler ) এর মধ্য দিয়ে চালনা করা হয় , যেখানে তাপমাত্রা ৪০ ° সে , থাকে । ব্রেড কুলার থেকে পাউরুটি স্লাইসার ( Slicer ) বা কাটা যন্ত্রে যায় । সেখানে রাপিং ( Wrapping ) বা মোড়ক যন্ত্রের সাহায্যে মোড়কজাত করা হয় । স্লাইসার পাউরুটি গুলোকে দ্রুত কাটে এবং মোমের প্রলেপযুক্ত কাগজ বা স্বচ্ছ প্লাস্টিকের ফিল্ম বা ব্যাগে মোড়কজাত করা হয় ।

পাউরুটি তৈরির স্বয়ংক্রিয় প্রক্রিয়া ( Automatic process to manufacture of bread ):

এই পদ্ধতি পাউরুটি তৈরির সবচেয়ে আধুনিক এবং অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক পদ্ধতি । এই পদ্ধতিতে প্রতিদিন প্রায় ৭ থেকে ১০ হাজার কেজি পাউরুটি তৈরি করা সম্ভব । এই প্রক্রিয়ায় পাউরুটি তৈরির উপাদানগুলো অবিরত মেশানো হয় । সমস্বত্ত্ব বা সমানভাবে মিশ্রিত এই উপাদানগুলো খামির পাম্পে নেওয়া হয় । এখানে খামিরকে ভালভাবে মাখানো ( Kneding ) হয় , যতক্ষণ খামিরের কাঠামো এবং গ্যাস উৎপন্ন না হয় ।

এই সুগঠিত খামিরকে পরে একটা যন্ত্রের মধ্যে নেওয়া হয় । যেখানে খামির অনবরত খণ্ড বিখণ্ড হয়ে একটা নির্দিষ্ট আকার এবং ওজনের টুকরায় পরিণত হয় । এই টুকরাগুলো যন্ত্রের নিচে দিয়ে চলন্ত প্যানের উপর পড়তে থাকে । এই প্যানগুলো নির্দিষ্ট সময় পরপর অবস্থান পরিবর্তন করে । তাছাড়া প্যানের সাথে ছুরি থাকে । সুতরাং প্রতিটি খণ্ড সুষ্ঠুভাবে প্যানের উপর পড়ে । এই টুকরাগুলো গাঁজনের জন্য রাখা হয় , যাকে প্রুফ ( Proof ) বলে ।

উপযুক্ত প্রফিং এরপর খণ্ডগুলো সেঁকার জন্য  নেওয়া হয় । এখানে ২৩২ ° সে , তাপমাত্রায় প্রায় ২৫ মিনিট খণ্ডগুলোকে সেঁকা ( waking ) হয় । এ সময় টুকরাগুলো পরিপূর্ণ পাউরুটির আকার ধারণ করে । এই প্রক্রিয়া স্বয়ংক্রিয়ভাবে অবিরাম চলতে থাকে বলে একে স্বয়ংক্রিয় প্রক্রিয়া ( Automatic Process ) বলে ।

পাউরুটি সম্পর্কে আরো যা যা জানতে পারি

পাউরুটি তৈরির প্রবাহচিত্র:

স্ট্রেইট ডো পদ্ধতি:

 

স্ট্রেইট ডো পদ্ধতি

  উপাদান প্রস্তুতকরণ ময়দা চালানী

দিয়ে ছাঁকা , ওজন নেয়া , ঈস্ট , লবণ ,

 পানি একসাথে মেশানো

খামির মিক্সিং

খামির গাজানোর জন্য রেখে দেয়া

খামির মাখানো

ওজন মাফিক টুকরা করা

নাড়াচার করা

খামির ফোলানো

চূড়ান্ত মোন্ডিং

টিমিং আপ

বেকিং বা সেঁকা

ঠাণ্ডা করা

টুকরা করে কাটা

র‌্যাপিং বা মোড়কজাত করা

 

স্পঞ্জ ডো পদ্ধতি:

 

স্পঞ্জ ডো পদ্ধতি

উপাদান প্রস্তুতকরণ ময়দা চালানী

দিয়ে ছাঁকা , ওজন নেয়া , ঈস্ট , লবণ ,

 পানি একসাথে মেশা

টুকরা করে কাটা

 স্পঞ্জ মিক্সিং

  স্পঞ্জ গাজানো

 পরিপক্ক এর জন্য রেখে দেয়া

 স্পঞ্জ চূর্ণবিচূর্ণ করে উপাদানের সাথে মেশানো

খামির মাখানো

ওজন মাফিক টুকরা করা

নাড়াচার করা

খামির ফোলানো

খামির মাখানো

ওজন মাফিক টুকরা করা

নাড়াচার করা

খামির ফোলানো

চূড়ান্ত মোন্ডিং

টিমিং আপ

বেকিং বা সেঁকা

ঠাণ্ডা করা

টুকরা করে কাটা

স্বয়ংক্রিয় প্রক্রিয়ার সুবিধা ও অসুবিধাসমূহ ( Advantages and Disadvantages of Automatic Process ):

সুবিধাসমূহ ( Advantages ):

১। ব্যবহৃত চিনি দ্রুত গাজন হয়ে প্রধান তরল উপাদান তৈরি করে ।

২। প্রয়োজনীয় লিভেনিং শক্তি তৈরি হয় ।

৩। অপব্যয় কম হয় ।

৪। অতিরিক্ত পানি যোগ করে দুর্বল ময়দা দিয়ে ভাল মানের পাউরুটি তৈরি করা যায় ।

৫। কম জায়গার প্রয়োজন হয় ।

৬। স্বয়ংক্রিয়ভাবে যান্ত্রিক উপায়ে উৎপাদিত হয় বলে শ্রমিক কম লাগে ।

৭। স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ রক্ষা করা যায় ।

৮। উৎপাদিত দ্রব্য ( পাউরুটি ) নরম , উপরের আবরণ সুন্দর একই ধরনের এবং উন্নতমানের হয়।

অসুবিধাসমূহ ( Disadvantages ):

১। দক্ষ শ্রমিকের প্রয়োজন হয় ।

২। মিশ্রণের সময় উচ্চ তাপের প্রয়োজন হয় ।

৩। গাজানো দ্রব্য বেশি লাগে ।

৪। অধিক অর্থ বিনিয়োগ করতে হয় ।

৫। কম উৎপাদনের ( ৭ হাজার কেজির কম ) জন্য এ পদ্ধতি উপযুক্ত না , কারণ খরচ বেশি হয় ।

সতর্কতা ( Carefulness ):

১। পাউরুটি তৈরির সাথে সাথে খাওয়া উচিত না ।

২। জলীয়কণা রোধের জন্য জলীয়কণা প্রতিরোধক কাগজে মোড়কজাত করলে পাউরুটি বিস্বাদ বা বাসি হয় না।

৩। খামির অতিরিক্ত ফোলানো উচিত না ।

৪। খামির অধিক শক্ত বা উষ্ণ অথবা অনমনীয় করে তৈরি করা উচিত না ।

সংরক্ষণ ( Preserve ):

১। তেল , চর্বি , মন্টের নির্যাস ( Malt Extract ) যোগ করে পাউরুটি বিস্বাদ বা বাসি হওয়া প্রতিরোধ করা যায় ।

২। কম তাপমাত্রায় রাখলেও বিস্থাদ প্রতিরোধ করা যায় । পাউরুটি সহজেই মোন্ড দ্বারা আক্রান্ত হয় । ১০০ কেজি ময়দার সাথে ১০০ গ্রাম সোডিয়াম বা ক্যালসিয়াম প্রাপাইওনেট অথবা সোডিয়াম অ্যাসিটেট যোগ করে মোল্ড ধ্বংস করা যায় । মোন্ড মুক্ত পাউরুটি প্রায় ৭ – ৮ দিন রাখা সম্ভব । পাউরুটি চটচটে , আঠালো , শক্ত এবং চুপসে যাওয়াকে রেপ ( Rope ) বলে । ল্যাকটিক এসিড বা ক্যালসিয়াম ফসফেট পাউরুটির উপাদানের সাথে মিশিয়ে এর অ্যাসিডিটি বৃদ্ধি করে রোপ প্রতিরোধ করা যায় ।

ড্রাই পাউরুটি তৈরির প্রক্রিয়া ( Manufacturing process of dry bread ):

১। চালুনিতে ছাঁকা: চালুনিতে নিম্নোক্ত কারণে ময়দা ছাঁকা হয়

# অপদ্রব্য দূর করে ।

# ময়দার বায়ুপ্রবাহ করতে ।

২। ওজন নেয়া: সমস্ত উপাদানসমূহ আলাদা আলাদাভাবে মেপে নেয়া হয় ।

৩। মেশানো: একটা মিক্সিং যন্ত্রে / পাত্রে সবগুলো উপাদান ভালভাবে মেশানো হয় । মিশ্রণটি বেশি শক্তও হবে না আবার বেশি পাতলাও হবে না । মেশানোর অনুমোদিত সময় হচ্ছে ৩ মিনিট । এ অবস্থায় খামির তৈরি হয় ।

৪। গাঁজানো বা ফার্মেন্টশন: খামিরকে ফার্মেন্টেশন চেম্বারে ( ২৭ – ৩০ ) ° সে . তাপমাত্রায় ২ ঘণ্টা রাখা হয় । এ ঈস্ট সময় বিভিন্ন ধরনের পরিবর্তন ঘটে । চিনির উপর ঈস্টের ক্রিয়া – চিনি জাইমেস কার্বন ডাই – অক্সাইড ( CO2 ) + অ্যালকোহল এই CO , উৎপন্ন হওয়াতে খামির ফুলে উঠে ।

৫। নক ব্যাক: ফুলে উঠা খামিরকে বাইরে থেকে কয়েক বার চাপ প্রয়োগ করতে হয় । যাতে খামির থেকে কার্বন ডাই – অক্সাইড দূরীভূত হয় ।

৬। মধ্যবর্তী প্রুফ: এ পর্যায়ে নক ব্যাকের পর খামিরকে প্রায় ২৫ মিনিট রেখে দেয়া হয় । ৭। মোন্ডিং ও চাপ প্রয়োগে পুনরায় খামির থেকে গ্যাস বের করা হয় এবং পাকানো হয় । এরপর প্রেসার বোর্ডের মধ্যদিয়ে প্রবাহিত করতে হয় । তারপর মোন্ডের মধ্য নির্দিষ্ট পরিমাপে রাখতে হয় ।

৮। চূড়ান্ত প্রুফ: মোন্ডে ভর্তি করার পর ৩২ ° C তাপমাত্রায় ৮০ % আর্দ্রতায় প্রায় ৫৫ মিনিট রাখতে হয় । এ সময়ে খামির টুকরাগুলো পরিপূর্ণ পাউরুটির আকার ধারণ করে ।

৯। সেঁকা বা বেকিং: চুল্লিতে ২৩২ ° C তাপমাত্রায় ২৫ মিনিট রাখা হয় । এ সময়ে পাউরুটি তৈরি সম্পন্ন হয় । তারপর যখন পাউরুটির ময়েশ্চার হয় তখন চুল্লি থেকে নামানাে হয় ।

১০। ঠাণ্ডা করা: কক্ষ তাপমাত্রায় পাউরুটি ঠাণ্ডা করা হয় ।

১১। টুকরা: ছুরি বা চাকু দিয়ে তৈরিকৃত পাউরুটি ছোট ছোট করা হয় ।

১২। মোড়কজাতকরণ: টুকরা করা পাউরুটি পানিরোধক পলিথিনের কাগজের মোড়কে ভর্তি করে সীল করা হয়।

পাউরুটি সম্পর্কে আরো যা যা জানতে পারি

রুটি খাওয়ার উপকারিতা: স্বাস্থ্যকর ডায়েটের জন্য একটি প্রধান খাদ্য

রুটি বহু শতাব্দী ধরে বিভিন্ন সংস্কৃতিতে একটি প্রধান খাদ্য। এটি বিভিন্ন ফর্ম, স্বাদ এবং টেক্সচারে আসে, এটি খাবারের জন্য একটি বহুমুখী পছন্দ করে তোলে। এই নিবন্ধে, আমরা রুটি খাওয়ার সুবিধাগুলি, বিবেচনার অসুবিধাগুলি, বিভিন্ন ধরণের রুটি উপলব্ধ এবং কিছু সুস্বাদু রেসিপিগুলি আপনার খাদ্যতালিকায় রুটি অন্তর্ভুক্ত করব।

রুটির পুষ্টির মূল্য

রুটি কার্বোহাইড্রেটের একটি গুরুত্বপূর্ণ উত্স হিসাবে কাজ করে, যা আমাদের দেহে শক্তি সরবরাহের জন্য প্রয়োজনীয়। এতে বি ভিটামিন, আয়রন এবং ফোলেট সহ বিভিন্ন ভিটামিন এবং খনিজ রয়েছে। সঠিক পুষ্টি উপাদান রুটির ধরনের উপর নির্ভর করে পরিবর্তিত হতে পারে।

রুটি খাওয়ার উপকারিতা

প্রয়োজনীয় পুষ্টি সরবরাহ করে

পুরো শস্য থেকে তৈরি রুটি ফাইবার, প্রোটিন এবং প্রয়োজনীয় খনিজগুলির মতো পুষ্টিতে সমৃদ্ধ। এই পুষ্টিগুলি ভাল সামগ্রিক স্বাস্থ্য এবং সুস্থতা বজায় রাখতে অবদান রাখে।

ডায়েটারি ফাইবারের ভালো উৎস

পুরো গম এবং পুরো শস্যের রুটি খাদ্যতালিকাগত ফাইবারের চমৎকার উৎস। ফাইবার হজমে সাহায্য করে, অন্ত্রের নিয়মিততা বাড়ায় এবং হৃদরোগ এবং ডায়াবেটিসের মতো কিছু রোগের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে।

ক্ষুধা মেটায় এবং শক্তি বাড়ায়

রুটি একটি ভরাট খাবার যা ক্ষুধা নিবারণ করতে সাহায্য করে এবং সারাদিন ধরে টেকসই শক্তি জোগায়। আপনার খাবারে রুটি অন্তর্ভুক্ত করা আপনাকে সন্তুষ্ট এবং শক্তি বোধ করতে সাহায্য করতে পারে।

হজম স্বাস্থ্য প্রচার করে

পাউরুটিতে থাকা ফাইবার উপাদান পরিপাকতন্ত্রের মাধ্যমে খাবারের মসৃণ চলাচলে সহায়তা করে স্বাস্থ্যকর হজমকে উৎসাহিত করে। এটি কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধ করতে পারে এবং সামগ্রিক অন্ত্রের স্বাস্থ্যের উন্নতি করতে পারে।

হার্টের স্বাস্থ্য সমর্থন করে

গোটা শস্যের রুটি, বিশেষ করে যেগুলিতে ফাইবার বেশি, হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করতে পারে। পাউরুটির ফাইবার এবং পুষ্টি স্বাস্থ্যকর কোলেস্টেরলের মাত্রা এবং রক্তচাপ বজায় রাখতে অবদান রাখে।

মস্তিষ্কের কার্যকারিতা বাড়ায়

রুটি, বিশেষ করে গোটা শস্যের জাতগুলিতে পুষ্টি রয়েছে যা মস্তিষ্কের স্বাস্থ্যকে সমর্থন করে। রুটিতে উপস্থিত বি ভিটামিন এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট জ্ঞানীয় কার্যকারিতা এবং স্মৃতিশক্তি উন্নত করতে অবদান রাখে।

রুটি খাওয়ার অসুবিধা

গ্লুটেন সংবেদনশীলতা এবং সিলিয়াক ডিজিজ

কিছু ব্যক্তির গ্লুটেন সংবেদনশীলতা বা সিলিয়াক রোগ রয়েছে, যা গ্লুটেনযুক্ত রুটি এড়াতে প্রয়োজনীয় করে তোলে। এই অবস্থার সাথে যাদের জন্য গ্লুটেন-মুক্ত রুটি বিকল্পগুলি উপলব্ধ।

উচ্চ গ্লাইসেমিক সূচক

নির্দিষ্ট ধরণের রুটি, বিশেষ করে যেগুলি পরিশোধিত শস্য থেকে তৈরি, তাদের উচ্চ গ্লাইসেমিক সূচক থাকে। এর মানে তারা রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বৃদ্ধির কারণ হতে পারে। আপনি যদি রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে উদ্বিগ্ন হন তবে পুরো শস্যের রুটি বা কম গ্লাইসেমিক সূচক বিকল্পগুলি বেছে নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

ক্যালোরি সামগ্রী

রুটি, বিশেষ করে মিহি শস্য থেকে তৈরি, ক্যালোরি-ঘন হতে পারে। আপনি যদি ক্যালোরি-সীমাবদ্ধ ডায়েটে থাকেন বা ওজন কমানোর চেষ্টা করেন তবে অংশের আকার বিবেচনা করা এবং পুরো শস্যের রুটি বা কম-ক্যালোরি বিকল্পগুলি বেছে নেওয়া অপরিহার্য।

রুটি বিভিন্ন ধরনের অন্বেষণ

সাদা রুটি

সাদা রুটি পরিশোধিত শস্য থেকে তৈরি এবং একটি নরম জমিন আছে। এটি স্যান্ডউইচ এবং টোস্টের জন্য একটি জনপ্রিয় পছন্দ তবে পুরো শস্যের রুটির পুষ্টির মানের অভাব রয়েছে।

গমের পাউরুটি

পুরো গমের রুটি সম্পূর্ণ গমের আটা থেকে তৈরি করা হয়, যা গমের কার্নেলের ভুসি এবং জীবাণু ধরে রাখে। সাদা রুটির তুলনায় এতে ফাইবার এবং পুষ্টিগুণ বেশি।

মাল্টিগ্রেন রুটি

মাল্টিগ্রেন রুটিতে গম, ওটস, বার্লি এবং আরও অনেক কিছুর সংমিশ্রণ রয়েছে। এটি বিভিন্ন ধরনের পুষ্টি এবং স্বাদ প্রদান করে।

টক রুটি

টক রুটি একটি গাঁজানো ময়দা স্টার্টার ব্যবহার করে তৈরি করা হয়, যা এটিকে একটি টেঞ্জি স্বাদ দেয়। এটি হজম করা সহজ এবং গ্লুটেন সংবেদনশীল ব্যক্তিদের জন্য এটি একটি ভাল বিকল্প হতে পারে।

গ্লুটেন-মুক্ত রুটি

গ্লুটেন-মুক্ত রুটি গম, রাই বা বার্লি ছাড়াই তৈরি করা হয়, এটি গ্লুটেন-সম্পর্কিত ব্যাধিযুক্ত ব্যক্তিদের জন্য উপযুক্ত করে তোলে। এটি সাধারণত চালের আটা বা বাদামের আটার মতো বিকল্প ময়দা ব্যবহার করে তৈরি করা হয়।

রুটি তৈরির প্রক্রিয়া

রুটি তৈরির প্রক্রিয়ায় ময়দা, জল, খামির এবং লবণ একত্রিত করা হয়। এই উপাদানগুলি মিশ্রিত করা হয়, বেক করা হয় এবং বেক করার আগে উঠতে দেওয়া হয়। ফলাফল উপভোগ করার জন্য প্রস্তুত একটি সুস্বাদু রুটি।

পাউরুটি খেলে কি ওজন বাড়ে?

রুটি খাচ্ছেন, পরিমিতভাবে একটি সুষম খাদ্যের অংশ হিসাবে এবং সরাসরি ওজন বৃদ্ধির কারণ হয় না। যেকোনো খাবার থেকে অতিরিক্ত ক্যালরি গ্রহণ ওজন বাড়াতে ভূমিকা রাখতে পারে। পুরো শস্যের রুটি বেছে নেওয়া এবং অংশের আকারের প্রতি মনোযোগী হওয়া স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখতে সাহায্য করতে পারে।

ওভেন বেকড ব্রেড রেসিপি

ওভেন-বেকড রুটির জন্য এখানে একটি সহজ রেসিপি রয়েছে:

উপকরণ:

  1. 3 কাপ সর্ব-উদ্দেশ্য ময়দা
  2. সক্রিয় শুকনো খামির 2 চা চামচ
  3. লবণ 1 চা চামচ
  4. 1 ½ কাপ গরম জল
  5. ঐচ্ছিক: টপিংয়ের জন্য বীজ বা ভেষজ

নির্দেশাবলী:

  1. একটি বড় পাত্রে, ময়দা, খামির এবং লবণ একত্রিত করুন।
  2. ধীরে ধীরে গরম জল যোগ করুন এবং একটি আঠালো ময়দা ফর্ম না হওয়া পর্যন্ত মিশ্রিত করুন।
  3. ময়দা একটি ময়দা পৃষ্ঠের উপর প্রায় 5-10 মিনিটের জন্য মসৃণ এবং স্থিতিস্থাপক হওয়া পর্যন্ত মাখান।
  4. একটি গ্রীস করা বাটিতে ময়দা রাখুন, এটি একটি পরিষ্কার কাপড় দিয়ে ঢেকে দিন এবং এটি প্রায় 1 ঘন্টার জন্য উঠতে দিন যতক্ষণ না এটি আকারে দ্বিগুণ হয়।
  5. ওভেনকে 425°F (220°C) এ প্রিহিট করুন।
  6. বাতাস ছেড়ে দেওয়ার জন্য ময়দার নীচে খোঁচা দিন এবং এটিকে একটি রুটির আকার দিন।
  7. পার্চমেন্ট পেপার দিয়ে রেখাযুক্ত একটি বেকিং শীটে রুটি রাখুন। ঐচ্ছিক: উপরে বীজ বা ভেষজ ছিটিয়ে দিন।
  8. প্রায় 25-30 মিনিট বা সোনালি বাদামী হওয়া পর্যন্ত রুটি বেক করুন।
  9. টুকরা করার আগে রুটি ঠান্ডা হতে দিন।

রুটি খেলে কি গ্যাস হয়?

কিছু ব্যক্তি রুটি খাওয়ার পরে গ্যাস বা ফোলা অনুভব করতে পারে, বিশেষত যদি তাদের নির্দিষ্ট খাদ্য অসহিষ্ণুতা বা সংবেদনশীলতা থাকে। আপনার শরীর বিভিন্ন ধরণের রুটির প্রতি কীভাবে প্রতিক্রিয়া দেখায় তা মনে রাখা গুরুত্বপূর্ণ এবং সেই অনুযায়ী আপনার ব্যবহার সামঞ্জস্য করুন। গ্লুটেন-মুক্ত বা টকযুক্ত রুটির বিকল্পগুলির সাথে পরীক্ষা করা হজমের সমস্যাগুলির জন্য উপকারী হতে পারে।

রুটির সাথে ব্রেকফাস্ট রেসিপি

  1. অ্যাভোকাডো টোস্ট: এক টুকরো পাউরুটি টোস্ট করুন এবং এর উপরে ম্যাশ করা অ্যাভোকাডো, লবণ, গোলমরিচ এবং লেবুর রস ছেঁকে নিন। ঐচ্ছিক: অতিরিক্ত স্বাদের জন্য কাটা টমেটো বা একটি পোচ ডিম যোগ করুন।
  2. ফ্রেঞ্চ টোস্ট: ফেটানো ডিম, দুধ এবং দারুচিনির মিশ্রণে পাউরুটির টুকরো ডুবিয়ে রাখুন। একটি গ্রীস করা স্কিললেটে সোনালি বাদামী হওয়া পর্যন্ত রান্না করুন। ম্যাপেল সিরাপ বা তাজা ফল দিয়ে পরিবেশন করুন।
  3. প্রাতঃরাশের স্যান্ডউইচ: পাউরুটির দুটি টুকরো টোস্ট করুন এবং স্ক্র্যাম্বল করা ডিম, পনির এবং আপনার পছন্দের শাকসবজি বা রান্না করা বেকন দিয়ে পূরণ করুন।
  4. ব্রেড পুডিং: একটি বেকিং ডিশে কিউব করা রুটি, দুধ, ডিম, চিনি এবং দারুচিনি একত্রিত করুন। মিশ্রণটি সেট না হওয়া পর্যন্ত বেক করুন এবং কাস্টার্ডের মতো টেক্সচার তৈরি করুন। ক্যারামেল সসের গুঁড়ি গুঁড়ি দিয়ে গরম উপভোগ করুন।

উপসংহার

রুটি, যখন বুদ্ধিমানের সাথে বাছাই করা হয় এবং পরিমিত পরিমাণে খাওয়া হয়, তা আপনার খাদ্যের একটি পুষ্টিকর এবং আনন্দদায়ক সংযোজন হতে পারে। এটি আপনার স্বাস্থ্যের বিভিন্ন দিক সমর্থন করার সময় প্রয়োজনীয় পুষ্টি, খাদ্যতালিকাগত ফাইবার এবং শক্তি প্রদান করে। যাইহোক, গ্লুটেন সংবেদনশীলতার মতো ব্যক্তিগত চাহিদাগুলি বিবেচনা করা এবং প্রয়োজনে উপযুক্ত বিকল্পগুলি বেছে নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন)

রুটি একটি স্বাস্থ্যকর খাদ্য পছন্দ?

রুটি একটি স্বাস্থ্যকর খাদ্য পছন্দ হতে পারে, বিশেষ করে গোটা শস্যের জাত যা ফাইবার এবং পুষ্টিতে সমৃদ্ধ। যাইহোক, পৃথক পুষ্টির চাহিদা এবং খাদ্যতালিকাগত সীমাবদ্ধতা বিবেচনায় নেওয়া উচিত।

রুটি কি ওজন কমানোর ডায়েটের অংশ হতে পারে?

হ্যাঁ, পরিমিত পরিমাণে এবং একটি সুষম খাবার পরিকল্পনার অংশ হিসাবে খাওয়া হলে রুটি ওজন কমানোর ডায়েটের অংশ হতে পারে। পুরো শস্য বা নিম্ন-ক্যালোরি রুটির বিকল্পগুলি বেছে নেওয়া এবং অংশের আকার নিয়ন্ত্রণ করা গুরুত্বপূর্ণ।

গ্লুটেন সংবেদনশীলতা সহ লোকেদের জন্য সর্বোত্তম ধরণের রুটি কী?

গ্লুটেন সংবেদনশীলতাযুক্ত ব্যক্তিদের জন্য, চালের আটা বা বাদামের আটার মতো বিকল্প ময়দা থেকে তৈরি গ্লুটেন-মুক্ত রুটি সেরা পছন্দ।

আমি কিভাবে আমার রুটি দীর্ঘস্থায়ী করতে পারি?

আপনার রুটি দীর্ঘস্থায়ী করতে, এটি একটি ঠান্ডা এবং শুকনো জায়গায় সংরক্ষণ করুন, যেমন একটি রুটির বাক্স বা একটি সিল করা পাত্রে। হিমায়িত রুটি এর শেলফ লাইফ বাড়াতেও সাহায্য করতে পারে।

রুটি হিমায়িত করা যাবে?

হ্যাঁ, রুটি হিমায়িত করা যেতে পারে। এটি প্লাস্টিকের মোড়কে শক্তভাবে মোড়ানো বা হিমায়িত করার আগে এটি একটি ফ্রিজার ব্যাগে রাখুন। রুটিটি ঘরের তাপমাত্রায় বা টোস্টার ওভেনে গলিয়ে নিন যখন খাওয়ার জন্য প্রস্তুত।

পাউরুটি সম্পর্কে আরো যা যা জানতে পারি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *